শেরগুল আহমেদ::
ফার্সি সাহিত্যের রাজপুত্র, মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.) তাঁর মসনবি শরিফে বাঁশির বুকফাটা কান্নার রূপকে এক চিরন্তন সত্য বলে গেছেন। বাঁশঝাড় থেকে কেটে আনা বাঁশিটি যেমন তার মূলের জন্য সারাক্ষণ কাঁদে, ঠিক তেমনি আমাদের এই আত্মাও এক তীব্র ব্যাকুলতায় তার আদি উৎস - পরম সত্তা আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে চায়। এই পরম আধ্যাত্মিক সত্য ক’জনই বা আমরা মন দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি? তবে চোখের সামনে এর যে বাহ্যিক রূপ আমরা দেখছি, তা আমাদের বুকটাকে কাঁপিয়ে দেয়। মানবজাতির ঊষালগ্নে মানুষ গুহায় থাকত। লজ্জাবোধ ছিল না, বিবেক জাগ্রত হয়নি, পশু আর মানুষের মাঝে কোনো তফাত ছিল না। মানুষ আজ সভ্য হয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর আধুনিকতার আলোয় আমরা শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছি। কিন্তু আজ বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস আসে! সভ্যতার এই আলোকোজ্জ্বল চূড়ায় দাঁড়িয়েও আমরা আজ কোন অন্ধকারের দিকে হাঁটছি? চারিদিকে আজ বিবেকহীনতার উৎসব। ঘুষের করাল গ্রাস, দুর্নীতির মহোৎসব, বেহায়াপনা, আর নির্মম খুন-রাহাজানি আজ আমাদের সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। যে মানুষ একদিন আলো ছড়ানোর কথা ছিল, সেই মানুষই আজ আবার সেই অন্ধকার, আদিম আর পাশবিক বর্বরতায় ফিরে যাচ্ছে। বাহ্যিক রূপটা আধুনিক হলেও, আমাদের ভেতরটা যেন আবার সেই আদিম গুহাবাসী পশুর মতো হিং¯্র হয়ে উঠছে। সভ্যতার এই উল্টো রথ, এই আত্মিক পতন রুখবে কে? আমরা কি তবে আমাদের আদিম অন্ধকারেই হারিয়ে যাবো, নাকি রুমি (রহ.)-এর সেই বাঁশির কান্নার মতো আমাদের আত্মাকেও জাগিয়ে তুলবো? আসুন, অন্ধকারের এই মোহের দেয়াল ভেঙে আমরা আমাদের প্রকৃত মনুষ্যত্বকে খুঁজে নিই। আমাদের চেতনা ধাবিত হোক সেই পবিত্র আলোর দিকে, যা আমাদের আসল উৎস। নিজের বিবেকের কাছে একবার প্রশ্ন করে দেখুন- আমরা কি সত্যিই এগোচ্ছি, নাকি পিছিয়ে যাচ্ছি? [২৮ জুলাই, ২০২৬খ্রি.]
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
প্রত্যেক প্রাণীই তার মূলের দিকে ধাবিত হয়
- আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২১:৩২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২২:১৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক